ইস্ট ল্যান্সিং, ১৮ এপ্রিল : মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তারা মঙ্গলবার তাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জানিয়েছেন যে, একটি রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকায় ওয়েলস হল পুরো সপ্তাহজুড়েই বন্ধ থাকবে।
ওই রাসায়নিক পদার্থটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোমবার ওয়েলস হল বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে সোমবার বিকেলে জানানো হয়েছিল যে, মঙ্গলবার পরীক্ষার জন্য ভবনটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে মঙ্গলবার সকালে নতুন সিদ্ধান্তে জানানো হয়, হলটি পুরো সপ্তাহজুড়েই বন্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার সপ্তাহ চলাকালীন এই ঘটনাটি ঘটেছে। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এই ভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তারা তাদের সংশোধিত সময়সূচি বা পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য ইমেইলের মাধ্যমে জানতে পারবেন।
এছাড়া ‘X’ (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার পরই ভবনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বাড়ানো হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, “ওয়েলস হল এই সপ্তাহের বাকি সময়, অর্থাৎ ১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আজ ভোরে আমরা কিছু অতিরিক্ত তথ্য পেয়েছি, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে ভবনটির আরও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। তবে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য বর্তমানে কোনো ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা নেই।”
ক্যাম্পাসে ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে বা বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কারণ কী—এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বর্তমানে কোনো ফৌজদারি বা অপরাধমূলক তদন্ত চলছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সোমবার বিকেলের শুরুর ভাগ পর্যন্ত ওয়েলস হলের আশেপাশে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র অ্যাম্বার ম্যাকক্যান জানান, “অত্যধিক সতর্কতার অংশ হিসেবেই” ভবনটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
ওয়েলস হল বন্ধের বিষয়ে ‘ল্যান্সিং স্টেট জার্নাল’ মুখপাত্র অ্যাম্বার ম্যাকক্যান ও এমিলি গুয়েরান্টের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি পুলিশ ও জননিরাপত্তা বিভাগের স্টাফ সার্ভিসেস ডিভিশনের ডেপুটি চিফ ক্রিস রোজম্যান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাপক নাদিয়া ভিজুয়েতার সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার বিকেলের শুরুর দিকে ‘স্টেট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদক দেখেন, ওয়েলস হলের বাইরে ছয়টি পুলিশের গাড়ি অবস্থান করছে এবং ভবনের দুটি অংশকে সংযোগকারী একটি ছোট করিডোরে পুলিশ কর্মকর্তারা জটলা করে দাঁড়িয়ে আছেন। কিছুক্ষণ পর অধিকাংশ গাড়ি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে; কেবল একটি গাড়ি ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রবেশপথের কাছে অবস্থান করছিল।
সোমবার বিকেলে রোজম্যান ‘স্টেট জার্নাল’-কে জানান, সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক পদার্থটি ঠিক কোন অবস্থায় বা রূপে পাওয়া গিয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই মুহূর্তে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে বলে আমরা মনে করি না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; আর সেই কারণেই আজ (সোমবার) আমরা ‘অত্যধিক সতর্কতার’ অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নিয়েছি।”
ক্যাম্পাসের বৃহত্তম শিক্ষায়তনিক ভবন ওয়েলস হল ৬১৯ রেড সিডার রোডে অবস্থিত, যা স্পার্টান স্টেডিয়ামের পূর্ব দিকে। চারটি শাখা নিয়ে গঠিত এই ভবনে গণিত, ইংরেজি ও বিভিন্ন ভাষা বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়া হ্যানা প্রশাসনিক ভবনটি ওয়েলস হলের ঠিক উত্তরে, রেড সিডার নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :